ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস কোনটি ভালো?

হ্যালো বন্ধুরা আশা করি সকলে ভালো আছেন। আপনাকে আমাদের সাইটে আবারো স্বাগতম জানাচ্ছি। আজকের আর্টিকেল এ আমি আপনাদের সাথে ব্লগার ও ওয়ার্ডপ্রেস এর মধ্য এর পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

এখনকার সময়ে ব্লগিং একটি জনপ্রিয় ইনকামের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ব্লগিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের মন মত আর্টিকেল প্রকাশের সাথে সাথে বাড়তি আয়ও করতে পারবেন তাও খুব সহজেই।

ব্লগিং এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণে অনেকেই এখন এই খাতে(পেশায়) বেশি ঝুকছে। ব্লগিং করার সবথেকে জনপ্রিয় দুটি মাধ্যম হলো Google Bloger ও WordPress । আর তাই বর্তমানে যারা এই সব কাজে নতুন, তাদের থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন পাওয়া যায় সেটি হলো, ব্লগিং কোনটি দিয়ে করবো Blogger নাকি WordPress ?

তো আজকে আমি আপনাদের সামনে এই ২ টি মাধ্যম এর মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করবো। আলোচনা শেষে সিধান্ত আপনার, আপনি ব্লগিং এর জন্য কোনটি বেছে নিবেন। তো চলুন শুরু করা যাক।

 

Blogger নাকি WordPress?

 

WordPress এর সুবিধা?

ব্লগিং করার জন্য বর্তমানের সেরা কিছু মাধ্যমের মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস অন্যতম একটি মাধ্যম। তো প্রথমে আমরা এর কয়েকটি সুবিধা দেখে নেই,,,

১. নিজের ব্লগং টি কে সফল করতে নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ও টেম্পলেট সুবিধা রয়েছে এখানে। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করা পারবেন।

২. ওয়ার্ডপ্রেস নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই উপযোগী একটি সফটওয়্যার, খুব সহজেই কোনো কোডিং ছাড়াই থিম কাস্টমাইজেশনের মাধ্যমে ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব।

৩.আপনি কোনও ওয়েব হোস্টিং সংস্থার সাথে আবদ্ধ থাকবেন না। যার ফলে আপনি এক হোস্টিং থেকে অন্য হোস্টিং এ যেকোনো সময় স্থানান্তর করতে পারবেন।

 

WordPress এর অসুবিধা?

প্রতিটি জিনিসের যেমন সুবিধা থাকে তেমনি অসুবিধাও থাকে। নিম্নে ওয়ার্ডপ্রেস এর অসুবিধা আলোচনা করা হলো,,

১. আপনি আপনার ওয়েবসাইটের দায়িত্বে আছেন। এর অর্থ আপনার ওয়েবসাইটের সুরক্ষা, ব্যাকআপ তৈরি করা এবং কোনো নতুন আপডেট আসলে সেটা ইনস্টল করার জন্যও আপনি দায়বদ্ধ থাকবেন। মানে আপনাকে ম্যানুয়ালি করতে হবে।

২. ওয়ার্ডপ্রেস একটি সর্বাধিক জনপ্রিয় কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এই বাস্তবতাই ওয়ার্ডপ্রেস সব সময় হ্যাকারদের জন্য একটি প্রধান লক্ষ্য হিসাবে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, একটি সিকিউরিটি রিপোর্ট অনুসারে, ওয়ার্ডপ্রেস হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হ্যাক করা সিএমএস প্ল্যাটফর্ম।

৩. যদিও ওয়ার্ডপ্রেস নিজে একটি ফ্রি সিএমএস, কিন্তু পুরো চিত্রটির দিকে তাকালে দেখা যায়, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। যেমন, ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশনের জন্য প্লাগইন এবং থিমগুলির উপর নির্ভর করে এবং যদিও কিছু বিনামূল্যে থাকে তবে সেগুলি সর্বদা নির্ভরযোগ্য বা নিরাপদ হয় না।

 

Google Blogger এর সুবিধা?

১.ব্লগার sitename.blogspot.com সাবডোমেনের যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্য বিনামূল্যে সেবা দেয়।

২.আপনার কোনো হোস্টিং প্ল্যান কেনার দরকার নেই।

৩.আপনার ব্লগটি চালানোর জন্য আপনি মূলত আনলিমিটেড রিসোর্স পাবেন।

৪.আপনি বিনামূল্যে একটি SSL সার্টিফিকেটও পাবেন যা অটো-মেটিকলি ইনস্টল করা থাকে।

 

Blogger এর অসুবিধা সমূহ?

প্রতিটি জিনিসেরই ভালো জিনিসের পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও থাকে। তো ব্লগার এর কিছু অসুবিধা দেখে নিন।

১. ব্লগার এর কোনো গ্রাহক সাপোর্ট বা কাস্টমার সাপোর্ট নেই। তাদের একটি ফোরাম রয়েছে যেখানে অন্যান্য ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করলেও গুগল কর্মীরা মাঝে মধ্যে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

২.আপনি পিডিএফ ফাইল, টেক্সট ফাইল ইত্যাদি আপলোড করতে পারবেন না।

৩.ব্লগারের ফিচারগুলো সীমাবদ্ধ হওয়ায় আপনাকে নিজস্ব-হোস্টেড ওয়েবসাইটের মত যেমন খুশি তেমন কাস্টমাইজ করতে দিবে না।
আপনার ব্লগটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

আমি এখানে ব্লগার ও ওয়ার্ডপ্রেস এর কয়েকটি পার্থক্য, সুবিধা, অসুবিধা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আশা করি আপনাদের তা ভালো লেগেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *